Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

মার্ভেলের (Marvel) সুপারহিরো সিরিজ বা সিনেমা মানেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, কালারফুল কস্টিউম আর বিশ্ব বাঁচানোর লড়াই।
কিন্তু আপনি যদি এই টিপিক্যাল ফর্মুলায় ক্লান্ত হয়ে থাকেন, তবে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর (Amazon Prime Video) নতুন সিরিজ “Spider-Noir” (স্পাইডার-নয়ার) আপনার জন্য একদম পারফেক্ট একটি ডিশ।
গত ২৭ মে ২০২৬-এ মুক্তি পাওয়া এই সিরিজটি নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শক ও সমালোচকদের মাঝে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।
একজন নিয়মিত মুভি ও সিরিজ ক্রিটিক হিসেবে আমি সিরিজটি দেখেছি।
কেমন ছিল এই নতুন স্পাইডি অ্যাডভেঞ্চার? চলুন, একদম স্পয়লার-ফ্রি একটি বিস্তারিত রিভিউ করা যাক।
এই সিরিজের সবচেয়ে বড় টুইস্ট হলো, এর প্রধান চরিত্রের নাম ‘পিটার পার্কার’ নয়।
বরং আমাদের হিরো এখানে ‘বেন রাইলি’ (Ben Reilly)। গল্পের প্রেক্ষাপট ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার (Great Depression) সময়কার নিউ ইয়র্ক শহর।
বেন একসময় এই শহরের একমাত্র সুপারহিরো ‘দ্য স্পাইডার’ ছিল।
কিন্তু আজ থেকে ৫ বছর আগে নিজের ভালোবাসার মানুষকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়ে সে তার মাস্ক তুলে রাখে।
এখন সে একজন ব্যর্থ, হতাশাগ্রস্ত প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর (PI)।
‘অ্যাডিসন’ নামের এক ব্যক্তির খোঁজ করতে গিয়ে বেন জড়িয়ে পড়ে আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্যাংস্টার ‘সিলভারমেন’-এর এক বিশাল ষড়যন্ত্রের জালে।
যেখানে যুক্ত হতে থাকে ক্যাট হার্ডির মতো রহস্যময়ী নারী এবং স্যান্ডম্যানের মতো অদ্ভুত ক্ষমতাসম্পন্ন চরিত্ররা।
বেন রাইলির চরিত্রে নিকোলাস কেজ (Nicolas Cage) জাস্ট ফাটিয়ে দিয়েছেন!
২০১৮ সালের অ্যানিমেটেড মুভি ‘Into the Spiderverse’-এ তিনি এই চরিত্রের ভয়েস দিলেও, এবার লাইভ-অ্যাকশনে তাকে দেখাটা দারুণ এক অভিজ্ঞতা।
তার পরনে ডার্ক সুট, হাতে ওয়াইনের গ্লাস আর ঠোঁটে সিগারেট সব মিলিয়ে একজন ডিপ্রেসড ডিটেকটিভের চরিত্র তিনি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে গ্যাংস্টার ‘সিলভারমেন’ হিসেবে ব্রেন্ডন গ্লিসন (Brendan Gleeson) রীতিমতো ভয় ধরিয়ে দেন। সুপার পাওয়ারের চেয়েও তার নিষ্ঠুরতাই দর্শকদের বেশি ভাবাবে।
এছাড়া জ্যানেট চরিত্রে কারেন রদ্রিগেজ এবং রবির চরিত্রে ল্যামরনের কমেডি টাইমিং ও ডায়লগ ডেলিভারি সিরিজের গম্ভীর থিমের মাঝেও দারুণ ব্যালেন্স তৈরি করেছে।
এই সিরিজের সবচেয়ে ইউনিক দিক হলো এর সিনেমাটোগ্রাফি ও মেকিং।
নির্মাতারা দর্শকদের জন্য দারুণ এক অপশন রেখেছেন সিরিজটি আপনি সাদা-কালো (Black and White) এবং রঙিন (Color), দুটি ভার্সনেই দেখতে পারবেন!
এটি কোনো কালারাইজড ভার্সন নয়, বরং দুটি ভার্সনেই আলাদাভাবে শুট করা হয়েছে।
তবে ড্যারেন টিয়ারনানের (Darran Tiernan) সিনেমাটোগ্রাফির আসল ম্যাজিক বুঝতে হলে আপনাকে সাদা-কালো ভার্সনটাই দেখতে হবে।
১৯৪০-এর দশকের নয়ার (Noir) ফিল্মগুলোর প্রতি এটি একটি দারুণ ট্রিবিউট।
ছায়ায় ঢাকা শহরের রাস্তা, সিগারেটের ধোঁয়া আর অন্ধকার গলির ভিজ্যুয়াল আপনাকে এক অন্য দুনিয়ায় নিয়ে যাবে।
একজন মুভি লাভার ও স্পাইডারম্যান ফ্যান হিসেবে আমার এক্সপেরিয়েন্স ছিল অসাধারণ।
নির্মাতারা সিরিজের ডিটেইলিংয়ে দারুণ কাজ করেছেন।
যেমন: এই সিরিজে স্পাইডারের মাস্কটি উলের তৈরি!
কারণ ১৯৩০-এর দশকে লাইক্রা বা স্প্যানডেক্স কাপড় আবিষ্কারই হয়নি।
স্ক্রিপ্ট বেশ ফাস্ট, আর ডায়লগগুলো দারুণ উইটি (witty)।
তবে একটি বিষয় দর্শকদের মাথায় রাখতে হবে—যারা প্রথাগত স্পাইডারম্যানের মতো আকাশ থেকে আকাশে লাফিয়ে বেড়ানো সিজিআই (CGI) অ্যাকশন খুঁজবেন, তারা কিছুটা হতাশ হতে পারেন।
এটি মূলত একটি হার্ড-বয়েল্ড ডিটেকটিভ ক্রাইম-থ্রিলার।
এখানে একশন আছে, তবে তা খুবই রিয়েলিস্টিক এবং ডার্ক।
অডিয়েন্স এবং ক্রিটিকদের রেটিং দেখলেই বুঝতে পারবেন সিরিজটি কতটা সফল:
“স্পাইডার-নয়ার” শুধুমাত্র একটি সুপারহিরো সিরিজ নয়, বরং এটি স্টাইল, কনফিডেন্স আর দুর্দান্ত স্টোরিটেলিংয়ের এক দারুণ প্যাকেজ।
আপনি যদি মার্ভেল ফ্যান নাও হয়ে থাকেন, তবুও শুধুমাত্র এর মেকিং এবং নিকোলাস কেজের অভিনয়ের জন্য সিরিজটি আপনার দেখা উচিত।
উইকএন্ডে বিঞ্জ-ওয়াচ করার জন্য এটি আমার তরফ থেকে Highly Recommended!