It Chapter One 2017 Movie Reviews: ভয়ঙ্কর থ্রিলার বা অতিরঞ্জিত?

0/5 No votes

Report this app

Description

আপনি কি ভয়ঙ্কর সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন? তাহলে “It Chapter One 2017” মুভিটি আপনার জন্য একেবারে পারফেক্ট। স্টিফেন কিং-এর ক্লাসিক হরর গল্পের এই আধুনিক রিমেকটি শুধু ভয়ের মাত্রাই বাড়ায় না, বরং গল্পের আবেগকেও শক্তিশালী করে। আপনি যদি জানতে চান কেন এই সিনেমাটি এত জনপ্রিয় এবং দর্শকদের মন জয় করেছে, তাহলে এই রিভিউটি আপনার জন্য। এখানে আমরা সিনেমাটির প্লট, চরিত্র, অভিনয় এবং ভয়ংকর মুহূর্তগুলো বিশ্লেষণ করব যা আপনাকে পুরো সিনেমাটি দেখার আগ্রহ জাগিয়ে তুলবে। পড়ুন এবং জানুন, কেন “It Chapter One 2017” হরর প্রেমীদের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা!

চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট

২০১৭ সালের ‘ইট: চ্যাপ্টার ওয়ান’ চলচ্চিত্রটি ভয়ের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই সিনেমার প্রেক্ষাপট মূলত স্টিফেন কিংয়ের বিখ্যাত উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে। সিনেমাটি ছোট শহরের একদল বাচ্চাদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার গল্প বলে। গল্পের মূল থিম ভয়, বন্ধুত্ব এবং সাহসিকতা ঘিরে আবর্তিত।

চলচ্চিত্রটি তার সময়ের অনেক জনপ্রিয় হরর সিনেমার থেকে আলাদা। এর ভিজ্যুয়াল এফেক্টস ও চরিত্রায়ন দর্শকদের মন জয় করেছে। এছাড়া, সিনেমার সঙ্গীত এবং পরিবেশ নির্মাণ ভয়ের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

স্টিফেন কিং এর উপন্যাস থেকে অভিযোজন

এই সিনেমার গল্প স্টিফেন কিংয়ের ১৯৮৬ সালের উপন্যাস ‘ইট’ থেকে নেওয়া হয়েছে। উপন্যাসটি শিশুদের ভয়ের প্রতীক পেনিওয়াইজ ক্লাউনের চারপাশে আবর্তিত। সিনেমায় মূল কাহিনী অনেকাংশে উপন্যাসের মতোই রাখা হয়েছে। তবে কিছু অংশ পরিবর্তন এবং সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে দর্শকদের জন্য আরও উপভোগ্য করতে।

উপন্যাসের গভীরতা এবং চরিত্রের আবেগ সিনেমায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি গল্পের মূল থিম এবং ভয়ের মিশ্রণকে সফলভাবে উপস্থাপন করে। সিনেমাটি উপন্যাসের ভক্তদের জন্য একটি মানসম্মত অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

২০১৭ সালের সংস্করণ ও তার বৈশিষ্ট্য

২০১৭ সালের ‘ইট’ সংস্করণটি আধুনিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এবং শক্তিশালী অভিনেতা দল নিয়ে তৈরি হয়েছে। বাচ্চাদের চরিত্রগুলো প্রাধান্য পায়, যা গল্পের আবেগকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

পেনিওয়াইজ চরিত্রটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এবং স্মরণীয়। সিনেমার সঙ্গীত ও ক্যামেরার কাজ ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে। এর ফলে দর্শকরা পুরো সিনেমায় টানটান উত্তেজনায় থাকেন।

সিনেমাটি কেবল ভয়ের জন্য নয়, বন্ধুত্ব এবং সাহসিকতার গল্প হিসেবেও সমাদৃত। এটি হরর প্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত।

পেনিওয়াইজ চরিত্রের বিশ্লেষণ

পেনিওয়াইজ চরিত্রটি “It Chapter One” সিনেমার অন্যতম মুখ্য আকর্ষণ। এটি একটি ভয়ঙ্কর এবং জটিল অ্যান্টাগনিস্ট। স্টিফেন কিং-এর কাহিনীর এই ক্লাউন চরিত্র দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যে পেনিওয়াইজের উপস্থিতি আতঙ্ক ছড়ায়। তার ভয়াবহ রূপ এবং আচরণ দর্শকদের দম বন্ধ করে দেয়। চলুন পেনিওয়াইজের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করা যাক।

নতুন পেনিওয়াইজ বনাম পুরানো

নতুন পেনিওয়াইজের রূপ অনেক আধুনিক এবং ভয়ংকর। বিল স্কার্সগার্ড অভিনীত পেনিওয়াইজের এক্সপ্রেশন এবং শরীরভঙ্গি খুবই প্রভাবশালী। পুরানো পেনিওয়াইজের তুলনায় তার ভঙ্গিমা বেশি নাটকীয়। পুরানো সংস্করণে টিম কারি ছিলেন পেনিওয়াইজ। তার অভিনয় ক্লাসিক হলেও নতুন সংস্করণে ভয় বাড়ানো হয়েছে। নতুন পেনিওয়াইজের মুখাবয়ব আরও রহস্যময়। তার চোখ এবং হাসি দর্শকদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। নতুন পেনিওয়াইজ আরো বেশি প্রাণবন্ত এবং গতিশীল। পুরানো পেনিওয়াইজের ভয় কম সরাসরি এবং কিছুটা ধীরে ধীরে তৈরি হয়। নতুন সংস্করণে ভয়ের উপাদান তীব্র এবং দ্রুত। তাই নতুন পেনিওয়াইজ অনেকের কাছে বেশি ভয়ংকর মনে হয়।

ভয় সৃষ্টি করার ক্ষমতা

পেনিওয়াইজের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হল মানুষের ভয়ের প্রতি তার প্রভাব। সে প্রত্যেকের সবচেয়ে গোপন ভয়কে চেনে এবং তা কাজে লাগায়। তার ভয় সৃষ্টি করার পদ্ধতি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ। পেনিওয়াইজ শুধু চমক দিয়ে নয়, মনের গভীরে প্রবেশ করে আতঙ্ক ছড়ায়। তার উপস্থিতি অনুভব করলেই দুঃস্বপ্ন শুরু হয়। নতুন পেনিওয়াইজের ভয় সৃষ্টির ক্ষমতা অনেক বেশি শক্তিশালী। তার আচরণ অনেক সময় অপ্রত্যাশিত এবং বিভ্রান্তিকর। তিনি শিশুদের ভয়কে বাস্তবে পরিণত করতে পারেন। এমনকি সাধারণ পরিস্থিতিকেও ভয়াবহ করে তোলে। নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে পেনিওয়াইজের ভয় ছড়ানোর দৃশ্যগুলি দর্শকদের আরো বেশি ভীত করে। তার ভয় সৃষ্টি করার ক্ষমতা সিনেমায় এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

ভয়াবহতা ও থ্রিলার উপাদান

২০১৭ সালের ‘It Chapter One’ চলচ্চিত্রটি ভয়াবহতা ও থ্রিলার উপাদানে ভরপুর। এটি দর্শকের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়। সিনেমাটির প্রতিটি দৃশ্যেই রহস্য এবং ভয়ের মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়।

স্টিফেন কিংয়ের কাহিনী অনুযায়ী, পেনিওয়াইজ চরিত্রটি ভয়ংকর এবং আকর্ষণীয়। তার উপস্থিতি সারা সিনেমায় ভয়ের আবহ তৈরি করে।

সাসপেন্স এবং জাম্প স্কেয়ার

সাসপেন্স তৈরি করতে সিনেমাটি ধীরে ধীরে উত্তেজনা বাড়ায়। ছোট ছোট ক্লু গুলো দর্শককে আগ্রহী করে রাখে।

জাম্প স্কেয়ারগুলি আকস্মিক এবং প্রায়ই হঠাৎ ঘটে। তারা দর্শকের মনোযোগ এক মুহূর্তে ধরে রাখে।

এই উপাদানগুলো ভয়ের অনুভূতি বাড়ায় এবং সিনেমাটিকে জীবন্ত করে তোলে।

মিউজিক ও সাউন্ড এফেক্টের ভূমিকা

মিউজিক সিনেমার মুড তৈরি করে। সঠিক সুর ও সাউন্ড এফেক্ট ভয়ের আবহ বজায় রাখে।

শব্দের ব্যবহার দর্শকের মনে ভয়ের ছাপ ফেলে। এটি মুহূর্তগুলোকে আরও তীব্র করে।

সাউন্ড ডিজাইন ভয়ের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে এবং থ্রিলার পরিবেশ গঠন করে।

অভিনয়ের মান ও চরিত্রায়ন

২০১৭ সালের ‘ইট চ্যাপ্টার ওয়ান’ সিনেমাটির অভিনয়ের মান ও চরিত্রায়ন দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। প্রতিটি চরিত্রের আবেগ ও ভয়ের মিশ্রণ এত সূক্ষ্মভাবে ফুটে উঠেছে, যা গল্পের ভয়ের মাত্রাকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ছোট্ট চরিত্রগুলো সহজেই দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।

অভিনেতারা চরিত্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ভয়ের অনুভূতি প্রকাশে সফল হয়েছেন। তাদের পারফরম্যান্স সিনেমাটির ভীতিকর পরিবেশকে আরও জীবন্ত করেছে। চরিত্রায়ন এতটাই প্রাকৃতিক যে, দর্শকরা সহজেই গল্পের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে।

লুজার্স ক্লাবের পারফরম্যান্স

লুজার্স ক্লাবের সদস্যদের অভিনয় দর্শকদের কাছে খুবই প্রভাবশালী। প্রতিটি শিশুর চরিত্রে জীবনের নানা দিক ফুটে উঠেছে। তাদের ভয়ের মুহূর্ত এবং বন্ধুত্বের দৃশ্যগুলো খুবই বিশ্বাসযোগ্য। ছোট্ট অভিনেতারা চরিত্রের আবেগ ও চ্যালেঞ্জ খুব ভালোভাবে উপস্থাপন করেছেন।

তারা একে অপরের সঙ্গে মিশে ভয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার দৃঢ়তা দেখিয়েছে। তাদের পারফরম্যান্স সিনেমাটির মর্ম স্পর্শ করেছে। দর্শকরা তাদের কল্পনাশক্তি ও সাহসের সঙ্গে সহজেই জুড়ে গেছে।

অন্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের ভূমিকা

পেনিওয়াইজ ক্লাউনের চরিত্রটি ভয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। অভিনেতার অভিনয় এতটাই ভয়ংকর যে, দর্শকরা সহজেই তার উপস্থিতি অনুভব করতে পারে। পেনিওয়াইজের মুভমেন্ট ও কন্ঠস্বর ভয়ের মাত্রা বাড়িয়েছে।

এছাড়াও, অন্যান্য বড়ো চরিত্র যেমন বেন, ম্যাক্স, এবং স্ট্যানলি তাদের নিজ নিজ ভূমিকায় শক্তিশালী উপস্থিতি রেখেছে। তারা গল্পের গতিপ্রকৃতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এই চরিত্রগুলোর অভিনয় সিনেমার থ্রিল ও ড্রামাকে আরও গভীর করেছে। দর্শকরা তাদের চরিত্রের সঙ্গে সহজেই আবেগগতভাবে সংযুক্ত হয়।

কাহিনীর গঠন ও আবেগপ্রবণতা

২০১৭ সালের ‘ইট চ্যাপ্টার ওয়ান’ সিনেমার কাহিনী গঠন এবং আবেগপ্রবণতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। গল্পের বুনোট ও আবেগের মেলবন্ধন সিনেমাটিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। প্রতিটি চরিত্রের অনুভূতি এবং তাদের অভিজ্ঞতা দর্শকের হৃদয়ে দাগ কাটে।

সিনেমার কাহিনী শুধু ভয়ের উপাদান নয়, একই সঙ্গে মানবিক সম্পর্ক এবং বন্ধুত্বের গল্পও তুলে ধরে। এই সমন্বয় সিনেমাটির আবেগকে আরও গভীর করেছে।

মূল গল্পের আবেগময় দিক

গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিশুরা যারা ভয় ও সংকটের মুখোমুখি হয়। তাদের বন্ধুত্ব এবং সাহসিকতা আবেগের মূল উৎস। প্রতিটি চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড এবং মানসিক অবস্থা সিনেমায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

এরা একসাথে হয়ে ভয়কে মোকাবিলা করে, যা দর্শকদের মধ্যে এক গভীর সংযোগ তৈরি করে। এই আবেগময় দিকটি সিনেমাকে শুধুমাত্র একটি হরর ফিল্ম থেকে বেশি করে তোলে।

থ্রিলার ও ড্রামার সমন্বয়

সিনেমায় থ্রিলার ও ড্রামার দারুণ সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। ভয়ের মুহূর্তগুলো উত্তেজনা বাড়ায়, আর ড্রামা চরিত্রগুলোর গভীরতা দেখায়।

এই মিশ্রণ দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখে এবং গল্পের সঙ্গে আবেগগত সংযোগ গড়ে তোলে। প্রতিটি দৃশ্যের আবেগ এবং থ্রিলার উপাদান একসাথে কাজ করে সিনেমাটিকে জীবন্ত করে তোলে।

সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া

২০১৭ সালের ‘ইট চ্যাপ্টার ওয়ান’ মুভি মুক্তির পর সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া ছিল ব্যাপক এবং বৈচিত্র্যময়। অনেকেই ছবিটির ভীতিকর পরিবেশ, চরিত্রের অভিনয় ও গল্পের অনন্য দিকগুলো প্রশংসা করেছেন। আবার কেউ কেউ কিছু সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরেছেন। চলুন এই প্রতিক্রিয়াগুলো বিস্তারিত দেখি।

রটেন টমেটোজ ও আইএমডিবি রেটিং

রটেন টমেটোজে ‘ইট চ্যাপ্টার ওয়ান’ পেয়েছে প্রায় ৮৫% স্কোর। এটি একটি শক্তিশালী প্রমাণ যে ছবি দর্শক ও সমালোচকদের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আইএমডিবিতে ছবিটির রেটিং প্রায় ৭.৩/১০। হাজার হাজার ব্যবহারকারী এই রেটিং দিয়েছে, যা ছবিটির জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার পরিচায়ক।

প্রশংসা ও সমালোচনা

সমালোচকরা ছবির সঙ্গীত ও ভীতিকর পরিবেশের প্রশংসা করেছেন। পেনিওয়াইজ চরিত্রটি অনেকেই ভয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শিশু অভিনেতাদের পারফর্ম্যান্স বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। গল্পের আবেগঘন দিকগুলো দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে।

তবে কিছু সমালোচক বলেছেন, কিছু ভয়ের দৃশ্য বেশি সরাসরি ও নির্দিষ্ট ছিল। এতে কিছু মুহূর্তে উত্তেজনা কমে যায় বলে মনে হয়েছে। কিছু জায়গায় গল্পের গভীরতা বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। তবুও, ছবিটি মোটামুটি একটি সফল হরর সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

প্রেক্ষাগৃহ ও দর্শক প্রতিক্রিয়া

২০১৭ সালের ‘ইট চ্যাপ্টার ওয়ান’ সিনেমাটি মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেছে। সিনেমাটি হরর প্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। দর্শকরা নানা দৃষ্টিকোণ থেকে সিনেমাটির প্রতি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

কিছু দর্শক সিনেমাটির ভয়াবহতা এবং গল্পের গভীরতা প্রশংসা করেছেন। আবার কিছু দর্শক বলছেন, সিনেমাটি কিছু জায়গায় অতিরঞ্জিত হয়েছে। এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া সিনেমাটির জনপ্রিয়তা ও বিতর্কের মাত্রা বাড়িয়েছে।

প্রিয়তা ও বিতর্ক

‘ইট চ্যাপ্টার ওয়ান’ সিনেমাটি মুক্তির পর থেকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বিশেষ করে পেনিওয়াইজ চরিত্রের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। অনেকেই এই চরিত্রটিকে সেরা হরর ভিলেন হিসেবে মনে করেন।

তবে কিছু সমালোচক সিনেমাটির ভয়ঙ্কর দৃশ্যগুলোকে অতিরঞ্জিত বলেও মনে করেছেন। তারা মনে করেন, কিছু অংশে ভয় দেখানোর চেষ্টা বেশি হলেও তা প্রাকৃতিক নয়। এই বিষয়টি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে বিতর্ক চলছে।

ভয়ঙ্কর না অতিরঞ্জিত – দর্শকদের মতামত

অনেক দর্শক সিনেমাটির ভয়ঙ্কর মুহূর্তগুলোকে সত্যিই ভয়াবহ বলে অভিহিত করেছেন। তারা পেনিওয়াইজের ভূমিকায় অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। অনেকেই বলেছেন, সিনেমাটি তাদের রাত্রি জাগরণে রাখে।

অন্যদিকে কিছু দর্শক মনে করেন, কিছু সিকোয়েন্স অতিরিক্ত নাটকীয় এবং অসংলগ্ন। তারা বলেছেন, কিছু ভয়াবহ দৃশ্য অতিরিক্ত কর্পোরেট এবং অপ্রয়োজনীয় ছিল। এই মতবিরোধ সিনেমাটির দর্শকপ্রিয়তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ফিল্মের প্রযুক্তিগত দিক

ইট চ্যাপ্টার ওয়ান (২০১৭) চলচ্চিত্রের প্রযুক্তিগত দিকগুলো দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। ছবির গুণগতমান এবং ভয়ঙ্কর পরিবেশ তৈরি করতে এই দিকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রযুক্তিগত দিকগুলো সিনেমাটির সফলতা ও দর্শকের অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে।

সিনেমাটোগ্রাফি ও ভিজ্যুয়াল এফেক্ট

ছবির সিনেমাটোগ্রাফি খুবই মনমুগ্ধকর। ক্যামেরার কাজ ভয়াবহ পরিবেশের সঙ্গে মানানসই। আলো ও ছায়ার ব্যবহার ভয়ের অনুভূতি বাড়ায়। ভিজ্যুয়াল এফেক্টগুলো অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং মনোযোগাকর্ষক। ক্লাউন পেনিওয়াইজের ভয়ঙ্কর রূপ ফুটিয়ে তোলায় বিশেষ দক্ষতা দেখানো হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ভূতুড়ে দৃশ্যের সংমিশ্রণ দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে।

সম্পাদনা ও দিকনির্দেশনা

সম্পাদনা দৃশ্যগুলোর গতি বজায় রাখে এবং উত্তেজনা বাড়ায়। প্রতিটি সিক্যুয়েন্স সাবলীলভাবে সংযুক্ত হয়েছে। দিকনির্দেশক আন্দ্রেস মুশিয়েতি গল্পের মেজাজ ধরে রেখেছেন। শিশুসংঘের চরিত্রগুলোর অভিনয় পরিচালনা প্রশংসনীয়। সঠিক সময়ে সঠিক সাউন্ড ইফেক্ট ব্যবহার ভয়ের অনুভূতিকে প্রভাবিত করেছে। সারা সিনেমায় দিকনির্দেশনার ধারাবাহিকতা স্পষ্ট।

পূর্ববর্তী সংস্করণ ও তুলনা

২০১৭ সালের ‘ইট: চ্যাপ্টার ওয়ান’ সিনেমাটি পূর্ববর্তী সংস্করণের সঙ্গে তুলনা করলে অনেক নতুন দিক উন্মোচিত হয়। সিনেমার গল্প, চরিত্র এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের দিক থেকে এটি অনেকটাই আধুনিক এবং দর্শকের জন্য আকর্ষণীয়। পুরানো মিনি সিরিজের সঙ্গে এই নতুন সংস্করণের পার্থক্য এবং আধুনিক স্পর্শ দুটি বিষয়ই দর্শকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

পুরানো এবং নতুন সংস্করণের মধ্যে ফারাক বুঝতে পারলে সিনেমার প্রতি ভালো দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। আসুন দেখি এই দুই সংস্করণের প্রধান পার্থক্যগুলো কী কী।

পুরানো ‘ইট’ মিনি সিরিজের সঙ্গে পার্থক্য

১৯৯০ সালের ‘ইট’ মিনি সিরিজটি টিভি দর্শকদের জন্য তৈরি হয়েছিল। সেখানে গল্পের গতি ধীর ছিল এবং ভয়ংকর মুহূর্তগুলো তুলনামূলক কম তীব্র। মিনি সিরিজে পেনিওয়াইজ ক্লাউন চরিত্রটি বেশি নাটকীয় এবং কম ভয়াবহ দেখানো হয়।

তুলনামূলকভাবে, নতুন সিনেমায় ভয় এবং থ্রিলারের মাত্রা অনেক বেশি। মিনি সিরিজে ব্যবহৃত সাউন্ড এফেক্ট এবং সংগীত কখনও কখনও অতিরঞ্জিত বা হাস্যকর মনে হতে পারে। নতুন সংস্করণে সাউন্ড ডিজাইন অনেক বেশি সাবলীল এবং ভয়ানক।

নতুন সংস্করণের আধুনিক স্পর্শ

২০১৭ সালের ‘ইট’ সিনেমা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি। ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং মেকআপ অনেক উন্নত, যা ভয়ের অনুভূতি বাড়ায়। গল্পে শিশুদের চরিত্রগুলো আরও গভীর এবং প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

নতুন সংস্করণে পেনিওয়াইজ ক্লাউন চরিত্রটি অনেক বেশি রহস্যময় এবং ভয়ঙ্কর। সিনেমার গতি দ্রুত এবং দর্শককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে। আধুনিক থ্রিলার এবং হরর জেনারার সঙ্গে মানানসই এই সিনেমাটি নতুন প্রজন্মের কাছে বেশি প্রভাব ফেলেছে।

ভয়াবহ থ্রিলারের ভবিষ্যৎ

ভয়াবহ থ্রিলার ধারাটি আজকের সিনেমা জগতের একটি শক্তিশালী স্তম্ভ।

২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ইট চ্যাপ্টার ওয়ান’ এই ধারাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

সিনেমাটি ভয়ের সঙ্গে সঙ্গে আবেগেও সিক্ত। এটি দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

আসন্ন সময়ে এই ধরনের থ্রিলার আরও উন্নত ও আকর্ষণীয় হবে।

ইট চ্যাপ্টার টু এবং পরবর্তী সম্ভাবনা

‘ইট চ্যাপ্টার টু’ ২০১৯ সালে মুক্তি পায় এবং প্রথম ভাগের সফলতা ধরে রাখে।

এতে বড় হয়ে ওঠা চরিত্রদের গল্প দেখানো হয়।

ভয়ের নতুন দিক সামনে আসে এবং গল্পের গভীরতা বাড়ে।

পরবর্তী সময়ে আরো নতুন চরিত্র ও গল্পের বিকাশ আশা করা যায়।

স্টিফেন কিং এর অন্যান্য অভিযোজন

স্টিফেন কিং এর বই থেকে তৈরি সিনেমাগুলো থ্রিলার প্রেমীদের কাছে জনপ্রিয়।

‘শাইনিং’, ‘মিসরি’, ও ‘দ্য মিস্ট’ এর মত সিনেমা সফল হয়েছে।

Frequently Asked Questions

Is It Chapter 1 A Good Movie?

ইট: চ্যাপ্টার ১ একটি উত্তেজনাপূর্ণ ও ভালো অভিনীত হরর সিনেমা। এটি স্টিফেন কিংয়ের গল্পকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করেছে। দর্শকরা এর সাসপেন্স ও চরিত্রগুলোর সাথে সহজেই যুক্ত হতে পারে। সুতরাং, এটি দেখার মতো একটি ভালো মুভি।

Which Is Scarier, It 1990 Or It 2017?

২০১৭ সালের ‘ইট’ আরও ভয়ঙ্কর কারণ আধুনিক ভিজ্যুয়াল ও সাসপেন্স বাড়িয়েছে। ১৯৯০ সালের সংস্করণ কিছুটা পুরনো ও কম চমকপ্রদ। নতুন ভার্সনে পেনিওয়াইজের চরিত্র আরও প্রাণবন্ত ও ভীতিকর। তাই ভয়ের মাত্রা বেশি ২০১৭ সালের ‘ইট’-এ।

Can My 7 Year Old Watch It?

না, ৭ বছরের শিশুদের জন্য “It” চলচ্চিত্রটি উপযুক্ত নয়। এতে ভয়ংকর এবং সহিংস দৃশ্য রয়েছে যা শিশুর মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি করতে পারে। অভিভাবকদের সতর্ক থাকা উচিত।

Is It 2017 Worth Watching?

২০১৭ সালের ‘ইট’ সিনেমাটি ভালো অভিনয় ও ভয়ঙ্কর পরিবেশনার জন্য দেখার যোগ্য। এটি স্টিফেন কিংয়ের কাহিনীকে সফলভাবে ফুটিয়েছে। ভয় এবং আবেগের সমন্বয়ে সিনেমাটি দর্শকদের আকর্ষণ করে রাখে।

Conclusion

ইট চ্যাপ্টার ওয়ান ২০১৭ সিনেমাটি ভয়ের দিক থেকে বেশ সফল। গল্পের আবেগ এবং ভয়ের মিশ্রণ দর্শককে ধরে রাখে। পেনিওয়াইজ চরিত্রটি নতুন করে ভয়ের মাত্রা বাড়িয়েছে। শিশুদের অভিনয় পুরো সিনেমাটিকে প্রাণবন্ত করেছে। সাউন্ডট্র্যাক এবং ভিজ্যুয়াল এফেক্টস সিনেমাটির মেজাজ তৈরি করে। যারা হরর ফিল্ম পছন্দ করেন, তারা এটি উপভোগ করবেন। ইট চ্যাপ্টার ওয়ান একটি স্মরণীয় হরর অভিজ্ঞতা। এটি দেখে ভয় এবং উত্তেজনা একসাথে পাওয়া যায়। তাই, এই সিনেমাটি দেখার মতো একটি ভালো পছন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *